April 13, 2026

AI বিপ্লব ও র‍্যামের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি: সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

বর্তমানে আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) থেকে শুরু করে জটিল বৈজ্ঞানিক গবেষণা—সবকিছুতেই AI-এর জয়জয়কার। কিন্তু এই প্রযুক্তির আড়ালে সাধারণ পিসি ব্যবহারকারী এবং গেমারদের জন্য এক দুঃসংবাদ বয়ে এনেছে মেমরি চিপ বা RAM-এর বাজার। ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববাজারে র‍্যামের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০% থেকে ৭০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেন এই সংকট?
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:
AI ডেটা সেন্টারের আগ্রাসী চাহিদা: এনভিডিয়া (Nvidia), গুগল এবং মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের AI মডেল প্রশিক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ উচ্চগতির মেমরি (HBM – High Bandwidth Memory) ব্যবহার করছে। ফলে চিপ নির্মাতারা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য DDR4 বা DDR5 র‍্যাম তৈরির চেয়ে লাভজনক AI চিপ তৈরিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
উৎপাদন ব্যবস্থার পরিবর্তন: স্যামসাং (Samsung) এবং এসকে হাইনিক্স (SK Hynix)-এর মতো শীর্ষ নির্মাতারা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ সাধারণ র‍্যাম থেকে সরিয়ে AI-গ্রেড মেমরির দিকে চালিত করেছে। একে বিশেষজ্ঞরা ‘ক্যানিবালাইজেশন’ বলছেন, যেখানে একটি উন্নত পণ্যের জন্য সাধারণ পণ্যের উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়।
সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যহীনতা: ২০২৬ সালে মেমরি চিপের চাহিদা জোগানের তুলনায় অনেক বেশি। অনেক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের ২০২৬ সালের সম্পূর্ণ স্টক ইতিমধ্যেই বড় বড় টেক কোম্পানির কাছে অগ্রিম বিক্রি করে দিয়েছে।
সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর প্রভাব
এই পরিস্থিতির ফলে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ এমনকি স্মার্টফোনের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
বাজেট পিসি: ৫০০ ডলারের নিচে ভালো মানের ল্যাপটপ বা পিসি পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গেমিং ও এডিটিং: যারা নতুন পিসি বিল্ড করতে চাইছেন বা র‍্যাম আপগ্রেড করতে চাইছেন, তাদের বাজেটের একটি বড় অংশ এখন শুধু মেমরির পেছনেই খরচ হয়ে যাচ্ছে।
স্মার্টফোন: প্রিমিয়াম স্মার্টফোনগুলোতে এখন ১৬ জিবি বা ২৪ জিবি র‍্যামের প্রয়োজন হচ্ছে AI ফিচারগুলো চালানোর জন্য, যা ফোনের সামগ্রিক দামকে ২০% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ কী?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট অন্তত ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। নতুন উৎপাদন কারখানা (Fabs) তৈরি হতে কয়েক বছর সময় লাগে, তাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে গুগলের ‘TurboQuant’-এর মতো নতুন কিছু প্রযুক্তি আসছে যা AI-এর মেমরি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়িয়ে র‍্যামের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে পারে।
ক্রেতাদের জন্য পরামর্শ
যদি আপনার খুব জরুরি প্রয়োজন না হয়, তবে র‍্যাম আপগ্রেড করার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। আর যদি নতুন ডিভাইস কিনতেই হয়, তবে বাজেটে মেমরির জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা এখনকার সময়ের বাস্তবতা।

SUBHAMAY SADHUKHAN

District Reporter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

INDIAN PRESS UNION

Indian Press Union (IPU) A National Platform for Journalists and Media Professionals.

© 2026 All Rights Reserved IPU MEDIA ASSOCIATION