National

আজ মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী: সত্য, অহিংসা ও মানবতার আদর্শে দেশজুড়ে স্মরণ ‘বাপু’কে

By KASHINATH MANDAL • 2026-10-02 07:35 • 4 views   Share WhatsApp Share Facebook Share X
আজ মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী: সত্য, অহিংসা ও মানবতার আদর্শে দেশজুড়ে স্মরণ ‘বাপু’কে

প্রতিবেদন
২ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার

আজ ২ অক্টোবর। ভারতের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন—মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী বা গান্ধী জয়ন্তী। ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর গুজরাটের পোরবন্দরে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর জন্ম হয়। ২০২৬ সালে তাঁর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

গান্ধী জয়ন্তী শুধু একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করার দিন নয়। সত্য, অহিংসা, মানবিকতা, আত্মনির্ভরতা এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিয়ে গান্ধীর যে চিন্তাভাবনা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ও সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলেছিল, এই দিন সেই মূল্যবোধগুলি নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে।

🇮🇳 স্বাধীনতা আন্দোলনে গান্ধীর ভূমিকা

দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকার সময় বর্ণবৈষম্যের অভিজ্ঞতা গান্ধীর রাজনৈতিক চিন্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ভারতে ফিরে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং সত্যাগ্রহ ও অহিংস আন্দোলনকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হিসেবে সামনে আনেন।

১৯৩০ সালের ডান্ডি অভিযান তাঁর নেতৃত্বাধীন অহিংস আন্দোলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা। লবণ আইনের বিরুদ্ধে এই পদযাত্রা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে ওঠে।

গান্ধীর রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে ছিল এই ধারণা যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো সম্ভব, কিন্তু তার জন্য সহিংসতাই একমাত্র পথ নয়।


---

🕊️ সত্য ও অহিংসার বার্তা

গান্ধীর নামের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে দুটি মূল্যবোধ যুক্ত—সত্য ও অহিংসা।

তাঁর অহিংস প্রতিরোধের ধারণা শুধু ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন নাগরিক অধিকার ও সামাজিক আন্দোলনেও গান্ধীর অহিংস দর্শনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সত্যাগ্রহ ও অহিংস প্রতিরোধের ধারণা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।

এই কারণেই ২ অক্টোবর শুধু গান্ধী জয়ন্তী নয়, আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসেবেও পালিত হয়। রাষ্ট্রসংঘ ২০০৭ সালে ২ অক্টোবরকে International Day of Non-Violence হিসেবে ঘোষণা করে।


---

🌾 সাধারণ মানুষ ও গ্রামের প্রতি গুরুত্ব

ভারতের গ্রামীণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের জীবন গান্ধীর চিন্তায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। স্বদেশি, খাদি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও আত্মনির্ভরতার ধারণা তাঁর সামাজিক চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

আজকের দিনে গান্ধীর জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হতে পারে—গ্রামের মানুষের জীবন, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নিয়ে ভাবা।

Gram Bangla -এর মতো গ্রামীণ মানুষের কথা তুলে ধরা একটি বাংলা সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও এই দিকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।


---

🧹 পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দায়িত্ব

পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক দায়িত্ব নিয়েও গান্ধীর চিন্তাভাবনা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী সময়ে তাঁর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

ভারত সরকারের Swachh Bharat Mission-এর সঙ্গে গান্ধীর পরিচ্ছন্নতার ভাবনাকেও সরকারি পর্যায়ে যুক্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ গান্ধী জয়ন্তীর তাৎপর্য শুধু স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—নিজের বাড়ি, পাড়া, গ্রাম, রাস্তা ও পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মতো নাগরিক দায়িত্বের কথাও এই দিনে মনে করিয়ে দেয়।


---

🌍 বিশ্বজুড়ে গান্ধীর স্মরণ

গান্ধীর জন্মদিন আজ আন্তর্জাতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ২ অক্টোবরকে অহিংসা ও শান্তির বার্তা প্রচারের দিন হিসেবে পালন করা হয়।

ভারত সরকারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের গান্ধী জয়ন্তীতেও বিভিন্ন সামাজিক ও যুব-কেন্দ্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং গ্রামীণ উন্নয়নের মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।


---

🇮🇳 ২০২৬ সালের গান্ধী জয়ন্তী

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু গান্ধী জয়ন্তীর প্রাক্কালে মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানান। তাঁর বার্তায় বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিস্থিতির মধ্যে গান্ধীর শান্তি ও অহিংসার বার্তার প্রাসঙ্গিকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

২ অক্টোবর ২০২৬-এর জন্য দিল্লিতে সর্বধর্ম প্রার্থনা সভার কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।

KASHINATH MANDAL 2 followers