বীরভূমে নমিনেশন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ: হাসানে কাজল শেখের শক্তি প্রদর্শন, রামপুরহাটে বিজেপির কর্মসূচিতে উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি ঘিরে জোর চর্চা।
বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বীরভূম জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে নমিনেশন জমা দেওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। হাসান বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী কাজল শেখ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নমিনেশন পত্র জমা দেন। নমিনেশন জমা দেওয়ার আগে সকাল থেকেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য মিছিলের মাধ্যমে তিনি নির্বাচন দপ্তরে পৌঁছান। মিছিলে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি এলাকাজুড়ে নির্বাচনী আবহকে আরও উজ্জীবিত করে তোলে।
নমিনেশন জমা দেওয়ার পর কাজল শেখ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “সমস্ত বিধানসভায় একটাই প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আমরা কেবলমাত্র তাঁর সৈনিক। তাঁর নির্দেশেই আমরা কর্মী হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছে কাজ করছি।” তিনি আরও জানান, রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও জনমুখী পরিষেবার ওপর ভরসা রেখেই তিনি এই নির্বাচনে লড়ছেন এবং সাধারণ মানুষের আশীর্বাদই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। এদিন নমিনেশন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত অবস্থানেরই ইঙ্গিত বহন করছে।
অন্যদিকে, রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রেও নমিনেশন জমা দেওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী আশীষ ব্যানার্জি নমিনেশন জমা দেন। একইসঙ্গে বিজেপির মনোনীত প্রার্থী ধ্রুব সাহা-সহ অন্যান্য প্রার্থীরাও নিজেদের নমিনেশন দাখিল করেন। নমিনেশনকে কেন্দ্র করে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
বিশেষ করে বিজেপির নমিনেশন কর্মসূচিতে উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী মহন চরণ মাঝি-র উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বাড়তি চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যের বাইরে থেকে একজন মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতিকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা রাজনৈতিক জল্পনা। নমিনেশন জমা দেওয়ার সময় বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে প্রার্থীকে নিয়ে যাওয়া হয় নমিনেশন কেন্দ্রে এবং উপস্থিত নেতারা দলীয় কর্মীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও কেন অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নমিনেশন কর্মসূচিতে নিয়ে আসা হল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি একদিকে যেমন সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার কৌশল, অন্যদিকে ভোটের আগে শক্তি প্রদর্শনেরও একটি বার্তা হতে পারে।
সব মিলিয়ে হাসান ও রামপুরহাট—দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই নমিনেশন পর্বকে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জনসমাগম নির্বাচনের আগাম উত্তাপ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এখন নজর আসন্ন প্রচারপর্বের দিকে, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে প্রচারের গতি আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।