মা কোড়া খাঁকি দুর্গাপুজো: মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির অনন্য কাহিনি, দেবীর ভোগে আজও বিশেষ ‘নাড়া’
উপশিরোনাম: বনভূমিতে ডাকাতদের পুজো, জমিদার শরৎচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নাদেশ, এক দরিদ্র মুসলিম বিধবার ভক্তি এবং কোড়া চালের নাড়া—স্থানীয় জনশ্রুতি ও লোকাচারের মেলবন্ধনে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে মা কোড়া খাঁকি দুর্গাপুজো।
প্রকাশনা: গ্রাম বাংলা রিপোর্ট
বিভাগ: মুর্শিদাবাদ | বাংলার লোকসংস্কৃতি | ধর্মীয় ঐতিহ্য | সম্প্রীতির কাহিনি
এক দুর্গাপুজো, বহু কাহিনি—লোকবিশ্বাসে গড়ে ওঠা সম্প্রীতির ঐতিহ্য
বাংলার দুর্গাপুজো মানেই শুধু দেবীর আরাধনা, ঢাকের বাদ্যি কিংবা আলোকসজ্জায় সাজানো মণ্ডপ নয়। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু পুজো, যেগুলির সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা লোককথা, পারিবারিক ইতিহাস এবং স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস। সেই বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত মা কোড়া খাঁকি দুর্গাপুজো।
এই পুজোকে ঘিরে প্রচলিত স্থানীয় কাহিনিতে উঠে আসে সাগরদিঘির মানিগ্রাম, বহুরা গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার, জ্যোৎকমল এলাকার জমিদারি এবং এক দরিদ্র মুসলিম বিধবার ভূমিকার কথা। দেবীর ভোগে কোড়া চালের নাড়া, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় রীতিনীতির মাধ্যমে এই পুজো একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করে।
তবে এই কাহিনির বেশ কিছু অংশ স্থানীয় জনশ্রুতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। তাই সেগুলিকে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং স্থানীয় ঐতিহ্যের প্রচলিত বিবরণ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
মানিগ্রাম থেকে বহুরা: বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের পুজোর সূচনার প্রচলিত কাহিনি
স্থানীয় ঐতিহ্য অনুসারে, মা কোড়া খাঁকি দুর্গাপুজোর সূচনা হয়েছিল সাগরদিঘির মানিগ্রামে বসবাসকারী বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের হাত ধরে। পরবর্তী সময়ে শরৎচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় বহুরা গ্রামে চলে আসেন। প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, জ্যোৎকমল এলাকায় তাঁর জমিদারি ছিল। এই তথ্যগুলির স্বাধীন ঐতিহাসিক নথি দিয়ে নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, সেই অঞ্চলের একটি বনভূমিতে একসময় ডাকাতেরা মা দুর্গার পুজো করত। একদিন কাজ সেরে ফেরার পথে শরৎচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সেই পুজো দেখতে পান বলে স্থানীয় কাহিনিতে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনাটি তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
এর পরের রাতে দেবী দুর্গা তাঁকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে নিজের বাড়িতে পুজোর আয়োজন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন—এমনটাই প্রচলিত কাহিনিতে বলা হয়। সেই স্বপ্নাদেশের পর তিনি বাড়িতে দেবীর প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করেন বলে স্থানীয় ঐতিহ্যে বর্ণিত রয়েছে।