বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে বিজ্ঞান মেধা অভীক্ষা-পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের অন্বেষা বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে ডিএভি পাবলিক স্কুল, রূপনারায়ণপুরে ৭৫০ পড়ুয়ার অংশগ্রহণ
রূপনারায়ণপুর, ১০ অক্টোবর ২০২৬: শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচেতনা, যুক্তিবাদী মনন, অনুসন্ধিৎসা ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানোর উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের অন্বেষা বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে ১০ অক্টোবর ডিএভি পাবলিক স্কুল, রূপনারায়ণপুরে অনুষ্ঠিত হয় বিজ্ঞান মেধা অভীক্ষা। এই পরীক্ষায় রূপনারায়ণপুর, চিত্তরঞ্জন ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৭৫০ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের এই অংশগ্রহণ অঞ্চলে বিজ্ঞানশিক্ষার প্রতি আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়।
অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়গুলির মধ্যে ছিল বিআরএস চিত্তরঞ্জন, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, ডিভি বয়েজ, ডিভি গার্লস, চিত্তরঞ্জন ইংলিশ মিডিয়াম, সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট, চিত্তরঞ্জন মহিলা সমিতি, পঞ্চম পল্লি বিদ্যালয়, চিত্তরঞ্জন দশম শ্রেণির বিদ্যালয়, আছড়া যজ্ঞেশ্বর বিদ্যালয়, আছড়া রায় বলরাম গার্লস স্কুল এবং কস্তুরবা গান্ধী বিদ্যালয়। এ ছাড়াও একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা এই অভীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
মুখস্থবিদ্যার বাইরে বিজ্ঞানচর্চার আহ্বান
বিজ্ঞান মেধা অভীক্ষার লক্ষ্য কেবল শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করা নয়, বরং তাদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, যুক্তিনির্ভর বিচারবোধ এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা গড়ে তোলা। বিজ্ঞানচর্চায় পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, তথ্য বিশ্লেষণ ও যুক্তির মাধ্যমে কোনো বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা হয়।
বর্তমান যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কৃষি, চিকিৎসা, পরিবেশ সংরক্ষণ, যোগাযোগ, মহাকাশ গবেষণা এবং শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই বিদ্যালয় স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক মনোভাব গড়ে তোলা জরুরি। এই ধরনের অভীক্ষা তাদের প্রশ্ন করতে, নতুন বিষয় জানতে এবং প্রচলিত ধারণাকে যুক্তির আলোকে বিচার করতে উৎসাহিত করে।
প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের মধ্যে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ, পরিবেশ সম্পর্কে কৌতূহল, সহজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং দৈনন্দিন ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজার অভ্যাস তৈরি করা প্রয়োজন। এই অভ্যাস ভবিষ্যতে বিজ্ঞান, গবেষণা, চিকিৎসা, প্রযুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ বাড়াতে পারে।
যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনে বিজ্ঞান মঞ্চের ভূমিকা
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের মতো বিজ্ঞানভিত্তিক সংগঠন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করে তোলা এবং সমাজে বিজ্ঞানমনস্কতার প্রসারে ভূমিকা পালন করে। বিজ্ঞানচর্চা যখন বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের বাইরে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানকে আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ পায়।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের পরিবর্তে প্রমাণনির্ভর চিন্তা, তথ্য যাচাই এবং যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে। ভুয়ো তথ্য ও অপবিজ্ঞানের বিস্তারের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই দক্ষতাগুলি গড়ে তোলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞান মেধা অভীক্ষার মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাই করার পাশাপাশি অন্যান্য বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেয়।
বিদ্যালয়গুলির সম্মিলিত অংশগ্রহণে বিজ্ঞানচর্চার প্রসার
রূপনারায়ণপুর, চিত্তরঞ্জন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল এই অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয় এবং বিভিন্ন শিক্ষাস্তরের পড়ুয়াদের উপস্থিতি বিজ্ঞানশিক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও পারস্পরিক আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি করে।
এই ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজন করা গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতার মনোভাব, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহ বাড়তে পারে। পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যেও বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসারে যৌথ উদ্যোগের সুযোগ তৈরি হয়।
ভবিষ্যতের জন্য এক ইতিবাচক পদক্ষেপ
১০ অক্টোবর ডিএভি পাবলিক স্কুল, রূপনারায়ণপুরে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেধা অভীক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা, যুক্তিবাদ, বৈজ্ঞানিক কল্পনাশক্তি এবং জ্ঞান অন্বেষণের মানসিকতা গড়ে তোলার একটি উদ্যোগ। বিজ্ঞানকে কেবল পরীক্ষায় নম্বর পাওয়ার বিষয় হিসেবে না দেখে জীবনকে বোঝার এবং সমাজের উন্নয়নে কাজে লাগানোর মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করাই এই ধরনের উদ্যোগের বৃহত্তর লক্ষ্য।
একটি সচেতন ও প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তুলতে বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসার গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়, শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সংগঠনগুলির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন করার অভ্যাস, প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং বিজ্ঞানমনস্কতা আরও বিকশিত হতে পারে।
বিজ্ঞানমনস্ক আগামী গড়ার অঙ্গীকার হোক—কৌতূহল থেকে অনুসন্ধান, অনুসন্ধান থেকে জ্ঞান, আর জ্ঞান থেকে প্রগতির পথে যাত্রা।