NATIONAL NEWS

ধ্বংসস্তূপে এখনও চলছে উদ্ধারকাজ, নেপালে মৃত ৬৬৯, নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার; কমেছে নতুন হ্রদ ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা

By KASHINATH MANDAL • 2026-08-31 05:34 • 3 views   Share WhatsApp Share Facebook Share X
ধ্বংসস্তূপে এখনও চলছে উদ্ধারকাজ, নেপালে মৃত ৬৬৯, নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার; কমেছে নতুন হ্রদ ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা

নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চতুর্থ দিনেও স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

গ্রাম বাংলা রিপোর্ট | আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৯ আগস্ট ২০২৬

হিমালয়ের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চতুর্থ দিনেও স্বাভাবিক হয়নি নেপালের পরিস্থিতি। নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ধ্বংসস্তূপে বহু জনপদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারী দল এখনও কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছে।

Reuters-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে মৃতের সংখ্যা ৬৬৯ এবং তিব্বতে ৭ জন। অর্থাৎ মোট মৃতের সংখ্যা অন্তত ৬৭৬ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ৩,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। চলমান উদ্ধার অভিযানের কারণে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

নতুন হ্রদ ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমেছে

বিপর্যয়ের পর হিমবাহ ধসের ধ্বংসাবশেষে তৈরি একটি জলাধার বা হ্রদ নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেটি হঠাৎ ভেঙে গেলে ফের বড় ধরনের জলস্রোত নেমে আসার আশঙ্কা ছিল।

তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেই আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। চিনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হ্রদটির জল ধীরে ধীরে প্রাকৃতিকভাবে বেরিয়ে যাচ্ছে। স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে এর আয়তন প্রায় ১২০,০০০ বর্গমিটার থেকে ৯৯,০০০ বর্গমিটারে নেমে এসেছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে আপাতত ঝুঁকি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কাছাকাছি আরও একটি জলাধার এখনও নজরদারিতে রয়েছে।

অর্থাৎ বিপদ পুরোপুরি কাটেনি, তবে আগের তুলনায় একটি বড় ঝুঁকি কিছুটা কমেছে।

আবার জোরদার হয়েছে উদ্ধার অভিযান

খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ও হেলিকপ্টার পরিচালনায় সাময়িক বাধা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতির উন্নতির পর উদ্ধারকাজ আবার জোরদার করা হয়েছে।

নেপালে ইতিমধ্যে ৩,৭০০-এর বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের কাছে খাবার, পোশাক ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে পাহাড়ি রাস্তা, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বহু এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো এখনও কঠিন হয়ে রয়েছে।

কোথায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা?

নেপালের সীমান্তবর্তী রাসুয়া ও আশপাশের পার্বত্য অঞ্চলগুলির মধ্যে কয়েকটি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও জনপদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে।

এদিকে Upper Trishuli-1 Hydropower Project-এর একটি টানেলে ১০০-র বেশি মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কঠিন ভূপ্রকৃতির মধ্যেও উদ্ধারকারীরা তাঁদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।

নিখোঁজদের পরিবারে বাড়ছে উদ্বেগ

নিখোঁজদের পরিবারগুলির মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। কাঠমান্ডু ও নেপালের বিভিন্ন শহরে হাসপাতাল ও প্রশাসনিক দপ্তরে নিখোঁজ আত্মীয়দের ছবি নিয়ে মানুষ খোঁজ করছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় অনেক পরিবারের কাছে এখনও প্রিয়জনের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পৌঁছায়নি।

উদ্ধারকারীরা একদিকে জীবিতদের সন্ধান করছেন, অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের কাজও চালাচ্ছেন। স্রোতের কারণে কিছু দেহ দূরবর্তী এলাকায় ভেসে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়রাও রয়েছেন

এই বিপর্যয়ে বিদেশি নাগরিকদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। Reuters-এর প্রতিবেদনে নিখোঁজদের মধ্যে ৫৪০-এর বেশি বিদেশি নাগরিক থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতীয় নাগরিকদের নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের কাছে এখনও নিশ্চিত তথ্য পৌঁছায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী আপডেটের ওপর পরিস্থিতির আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

শুধু প্রাণহানি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামোও

বন্যা ও ধসের স্রোতে বহু বাড়ি, সেতু, রাস্তা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিও বিপর্যয়ের প্রভাবের মুখে পড়েছে।

নেপাল সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পুনর্গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো পুনরুদ্ধারে কয়েক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। দেশটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজনের কথাও জানিয়েছে।

ভারত ও চিনসহ কয়েকটি দেশ ত্রাণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন কি এই বিপর্যয়ের কারণ?

হিমবাহ ধসের সঠিক কারণ এখনও তদন্তাধীন। বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তন, হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এবং সম্ভাব্য ভূকম্পনজনিত প্রভাবের মতো বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে একটি নির্দিষ্ট কারণকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা ঠিক হবে না।

এই ঘটনা হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহ-হ্রদ শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও সামনে এনেছে।

আজকের নেপাল: পরিস্থিতি এক নজরে

  • নেপালে মৃত: অন্তত ৬৬৯
  • তিব্বতে মৃত: ৭
  • মোট মৃত: অন্তত ৬৭৬
  • নিখোঁজ: প্রায় ৩,০০০
  • নেপালে উদ্ধার: ৩,৭০০-এর বেশি
  • বিদেশি নিখোঁজ: ৫৪০-এর বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ
  • হ্রদ ফেটে যাওয়ার তাৎক্ষণিক ঝুঁকি: কিছুটা কমেছে
  • আরও একটি জলাধার: নজরদারিতে
  • উদ্ধার অভিযান: চলছে
  • প্রধান সমস্যা: দুর্গম ভূখণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি

শেষ কথা

প্রকৃতির ভয়াবহ আঘাতের পর নেপালে একদিকে উদ্ধার অভিযান এগিয়ে চলেছে, অন্যদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে পরিবারগুলির উৎকণ্ঠা বাড়ছে। নতুন হ্রদ ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমে আসা স্বস্তির খবর হলেও বিপর্যয় এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

হিমালয়ের দুর্গম উপত্যকায় এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আগামী কয়েক দিন নেপালের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ধার অভিযান, নিখোঁজদের শনাক্তকরণ, ত্রাণ এবং পরবর্তী পুনর্গঠন—সব মিলিয়ে দেশটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তথ্য আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬। চলমান উদ্ধার অভিযান এবং সরকারি তথ্য প্রকাশের সঙ্গে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

Source: Reuters / সংশ্লিষ্ট সরকারি আপডেট

নোট: প্রতিবেদনটি চলমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। উদ্ধার অভিযান ও সরকারি তথ্যের পরবর্তী আপডেট অনুযায়ী পরিসংখ্যান পরিবর্তিত হতে পারে।

KASHINATH MANDAL 1 follower