রামপুরহাটে নার্সিংহোম-কাণ্ডে উত্তেজনা, চিকিৎসক-সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
রামপুরহাটে নার্সিংহোম-কাণ্ডে উত্তেজনা, চিকিৎসক-সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
গ্রেফতারের দাবিতে থানায় আইনজীবীদের বিক্ষোভ, পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন চিকিৎসকদের
রামপুরহাট: একটি বেসরকারি নার্সিংহোমকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ ঘিরে রামপুরহাটে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রোগী ভর্তি এবং অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত ‘পার্সেন্টেজ’ ও দালালচক্রের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত হয়েছে বলে আইনজীবীদের একাংশের দাবি। এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে রামপুরহাট বার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি তথা আইনজীবী রাহুল আলমকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক ডাঃ সফিকুর রহমান-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
ঘটনার পর ডাঃ সফিকুর রহমান-সহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে আইনজীবী মহলের দাবি। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে রাতে রামপুরহাট থানায় বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন দেন আইনজীবীরা। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার পর তিনজনকে আটক করা হলেও চিকিৎসক সফিকুর রহমানকে আটক করা হয়নি। অভিযোগে নাম থাকা প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আইনজীবীদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নার্সিংহোমটিকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার অভিযোগও তাঁদের পক্ষ থেকে তোলা হয়। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। সেখানে ডাঃ অশোক চ্যাটার্জী বক্তব্য রাখেন। চিকিৎসকদের দাবি, নার্সিংহোমে ঢুকে তাণ্ডব চালানো এবং কর্মীদের সঙ্গে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, ঘটনায় আটক তিনজনকে মুক্তি দেওয়া হোক। একইসঙ্গে নার্সিংহোমের কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে। আইনজীবীদের পক্ষ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে পেন-ডাউনের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও প্রশাসনের কাছে নিজেদের অভিযোগ ও দাবিগুলি জানানোর কথা বলা হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগগুলির সত্যতা পুলিশের তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। অভিযোগে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনও সিদ্ধান্ত এই পর্যায়ে টানা হয়নি।
প্রতিবেদকের বক্তব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। কোনও অভিযোগকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা নির্ধারিত হবে।
নূর মোহাম্মদ
রিপোর্টার