Supreme Court Lifts 8-Year Ban on Overnight Stays in Uttarakhand's High-Altitude Bugyals
রূপকুণ্ড, বেদনী ও হর কি দুন ট্রেকিং রুটে ফের রাতযাপনের সুযোগ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বন দফতরের নির্দেশ
দেহরাদুন | জুলাই ২০২৬
প্রায় আট বছর পর উত্তরাখণ্ডের উচ্চভূমির বুগিয়াল এলাকায় ট্রেকারদের রাত কাটানোর সুযোগ ফেরার পথ খুলেছে। উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের ২১ আগস্ট ২০১৮ সালের রায়ের ভিত্তিতে জারি হওয়া রাতযাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করায় রূপকুণ্ড, বেদনী এবং হর কি দুনের মতো জনপ্রিয় ট্রেকিং রুটে পর্যটন কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আলপাইন তৃণভূমির পরিবেশগত ক্ষয় নিয়ে উদ্বেগের কারণে আলি-বেদনী-বাগজি বুগিয়াল সংরক্ষণ সমিতির দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই নিষেধাজ্ঞার সূত্রপাত হয়। ২০১৮ সালের হাইকোর্টের নির্দেশের ফলে বুগিয়াল এলাকায় রাতযাপন নিষিদ্ধ হওয়ায় রূপকুণ্ড ও বেদনী-সহ বেশ কিছু পর্যটনকেন্দ্রে প্রচলিত ট্রেকিং কার্যক্রম ব্যাহত হয়। হর কি দুনের মতো রুটে ট্রেকারদের একই দিনে নেমে আসার প্রয়োজন হতো।
২০ জুলাই ২০২৬-এর রায়ে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশের C, E এবং L ধারাকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অসুবিধাজনক বলে উল্লেখ করে তা বাতিল করেছে। এই বিধানগুলির মধ্যে পর্যটকের সংখ্যা ২০০-তে সীমাবদ্ধ রাখা, বুগিয়াল এলাকায় রাতযাপন নিষিদ্ধ করা এবং বুগিয়ালগুলিকে জাতীয় উদ্যান বা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করার নির্দেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বদ্রীনাথ ফরেস্ট ডিভিশনের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার সর্বেশ কুমার ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি কমপ্লায়েন্স অর্ডার জারি করেন। ওই নির্দেশে সমস্ত রেঞ্জ ফরেস্ট অফিসারকে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পাশাপাশি হাইকোর্টের বাকি নির্দেশগুলি যথাযথভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে উত্তরাখণ্ডের পার্বত্য অঞ্চলের ট্রেকিং-নির্ভর অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আশা। রূপকুণ্ডের বেস ক্যাম্প লোহাজুংয়ের আশপাশের ওয়ান, দিদনা, কুলিং এবং মুন্দোলি-সহ বিভিন্ন গ্রামে রাতযাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর পর্যটন ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এর ফলে কিছু হোমস্টে এবং ট্রেকিং-সংক্রান্ত ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পর্যটন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় গাইড, পোর্টার, খচ্চরচালক, ট্যুর অপারেটর, হোমস্টে মালিক, দোকানদার এবং ট্যাক্সি চালকদের মতো ট্রেকিং পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ ফের বাড়তে পারে।
হর কি দুন ট্রেকের প্রবেশদ্বার ওসলা গ্রামের ট্রেকিং সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সুরেন্দ্র রানা জানান, এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় ট্রেকিং শিল্পের জন্য স্বস্তিদায়ক। তাঁর মতে, ট্রেকারদের আর একই দিনে হর কি দুন থেকে ফিরে আসতে হবে না এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে উচ্চভূমির এলাকায় রাতযাপনের সুযোগ পাওয়া গেলে ট্রেকিং অভিজ্ঞতা আরও সুবিধাজনক হতে পারে।
তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের ২০১৮ সালের রায়ে নির্ধারিত সামগ্রিক পরিবেশগত সুরক্ষা ব্যবস্থা বাতিল করা হয়নি। রাতযাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা-সহ নির্দিষ্ট কয়েকটি বিধান বাতিল হলেও অন্যান্য পরিবেশগত নির্দেশিকা কার্যকর রয়েছে। উত্তরাখণ্ডের ভঙ্গুর হিমালয় পরিবেশ রক্ষায় বন দফতরকে সেই সমস্ত নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফলে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর রূপকুণ্ড, বেদনী ও হর কি দুনের মতো জনপ্রিয় ট্রেকিং রুটে রাতযাপনের সুযোগ ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ট্রেকারদের সংশ্লিষ্ট বন দফতরের অনুমতি, স্থানীয় নিয়ম এবং পরিবেশগত নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।