রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে অনেক সময়ই দেখা যায়, বিভিন্ন দলের কর্মী-সমর্থকদের অবস্থান পরিবর্তন হতে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে এমন প্রবণতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, এক সময়ের বিরোধী শিবিরের অনেক নেতা-কর্মী পরিস্থিতি বদলের সঙ্গে সঙ্গে রাতারাতি বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন।
এই নতুন যোগদানকারীদের নিয়েই এখন দলের অন্দরমহলে শুরু হয়েছে চিন্তাভাবনা। দীর্ঘদিনের সংগঠনের কর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন—যাঁরা এতদিন অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শে সক্রিয় ছিলেন, তাঁরা কতটা আদর্শগতভাবে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন? নাকি শুধুমাত্র রাজনৈতিক সুবিধার কারণেই এই পরিবর্তন?
এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর ভূমিকা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সংগঠনের দীর্ঘদিনের নীতি অনুযায়ী, কর্মীদের মধ্যে আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই নতুন যোগ দেওয়া কর্মীদের কার্যকলাপ, তাঁদের রাজনৈতিক অতীত এবং সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বও বারবার সতর্ক করেছে যে, শুধুমাত্র সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য সংগঠনে যাঁকে-তাঁকে জায়গা দেওয়া হলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ, বুথ, মণ্ডল ও জেলা স্তরে বিপুল সংখ্যক নতুন কর্মীর গতিবিধির উপর সবসময় নজর রাখা কঠিন।
এই প্রেক্ষাপটে ‘শুদ্ধিকরণ অভিযান’-এর মতো উদ্যোগের কথা সামনে আসছে। এর উদ্দেশ্য হতে পারে সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করা, প্রকৃত কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া এবং শুধুমাত্র সুযোগসন্ধানী রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা।
তবে এই প্রক্রিয়া কতটা বাস্তবায়িত হবে এবং কীভাবে নতুন ও পুরনো কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ একটি রাজনৈতিক দলের শক্তি শুধু কর্মীর সংখ্যায় নয়, বরং কর্মীদের বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার উপরও নির্ভর করে।
আগামী দিনে বিজেপির সংগঠন কোন পথে এগোয়, এবং ‘নতুন আগত’ বনাম ‘পুরনো কর্মী’দের এই বিতর্ক কীভাবে মেটে—সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
তুহিন শুভ্র সরকার
জেলা সাংবাদিক