বলিদান দিবস উপলক্ষে ভারত কেশরী ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে। তাঁর জীবন, কর্ম এবং জাতীয় জীবনে অবদান আজও বহু মানুষের কাছে প্রেরণার উৎস। এই উপলক্ষে দ্বিতীয় সরসঙ্ঘচালক পরমপূজনীয় শ্রী গুরুজী মাধব সদাশিবরাও গোলওয়ালকরের স্মৃতিকথা থেকে নির্বাচিত কয়েকটি অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।
শ্রী গুরুজী তাঁর স্মৃতিচারণায় উল্লেখ করেন যে, তাঁদের সম্পর্ক কেবলমাত্র আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্নেহ এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতে তাঁরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতেন এবং একে অপরের মতামতকে গুরুত্ব দিতেন। একই সঙ্গে উভয়েই সতর্ক থাকতেন যাতে কোনো সংগঠনের স্বাধীনতা বা কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ না ঘটে।
তিনি আরও স্মরণ করেন যে, এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ডঃ মুখোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে পরামর্শ না করেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীকালে সেই সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনের জন্য মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনে। শ্রী গুরুজীর মতে, ডঃ মুখোপাধ্যায়ের সেই আত্মত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে এবং তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্ন বহু মানুষের মনে আজও জীবন্ত।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ডঃ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথাও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। বিরূপ পরিস্থিতি, সমালোচনা এবং নানা বাধা সত্ত্বেও তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব, দূরদৃষ্টি এবং সংগঠকসুলভ দক্ষতা বহু কর্মীকে একত্রিত করেছিল এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছিল।
ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও কর্ম আজও জাতীয় চেতনার অংশ। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম এবং জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার আগামী প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।