অতি বৃষ্টিতে কলকাতা, অনাবৃষ্টিতে মুম্বাই—জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা নাকি নতুন আবহাওয়ার প্রবণতা?
নিজস্ব প্রতিবেদন:
একদিকে টানা ভারী বৃষ্টিতে কার্যত জলমগ্ন কলকাতা, অন্যদিকে বর্ষার মরসুমেও প্রত্যাশিত বৃষ্টির অভাবে মুম্বাই। ভারতের দুই প্রধান মহানগরের এই বিপরীত আবহাওয়া নতুন করে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
কলকাতায় গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাটে জল জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষজন জলাবদ্ধতার সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে, মুম্বাইয়ে বর্ষা নির্ধারিত সময়ে প্রবেশ করলেও বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। জলাধারগুলিতে পর্যাপ্ত জল না জমায় পানীয় জলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধরনের চরম আবহাওয়া এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস, দ্রুত নগরায়ন এবং পরিবেশ দূষণের কারণে বর্ষার স্বাভাবিক ছন্দে পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও অনাবৃষ্টি—এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তারই ইঙ্গিত।
তবে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—এ কি শুধুই প্রাকৃতিক পরিবর্তন, নাকি মানুষের অতিরিক্ত পরিবেশ-ধ্বংসের ফল? আবার কেউ কেউ ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে একে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করলেও, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এসব দাবির কোনও প্রমাণ নেই। বিজ্ঞানীরা মূলত জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবসৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষতিকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্বন নিঃসরণ কমানো, বন সংরক্ষণ, জলাশয় রক্ষা এবং টেকসই নগর পরিকল্পনার মতো পদক্ষেপ এখনই কার্যকর না করলে ভবিষ্যতে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
কলকাতার অতিবৃষ্টি এবং মুম্বাইয়ের অনাবৃষ্টি আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরছে। এটি কেবল আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, বরং পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতন হওয়ার একটি সতর্কবার্তা।