২৬ জুন ২০২৬ (শুক্রবার): দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় মর্যাদা, শোক ও শ্রদ্ধার পরিবেশে মহরম (আশুরা) পালিত হচ্ছে। বিভিন্ন শহরে তাজিয়া মিছিল, ইমামবাড়া ও মসজিদে বিশেষ দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত এবং কারবালার শহিদদের স্মরণে শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানগুলি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
মহরমের ধর্মীয় তাৎপর্য
মহরম ইসলামী হিজরি বর্ষের প্রথম মাস। এর ১০ তারিখ ‘আশুরা’ নামে পরিচিত। এই দিনে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর সঙ্গীরা সত্য, ন্যায় ও মানবতার পক্ষে সংগ্রাম করতে গিয়ে শহীদ হন। তাই দিনটি মুসলিমদের কাছে আত্মত্যাগ, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
দেশজুড়ে পালন
দেশের বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল ও শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ মাতম ও মজলিসের মাধ্যমে কারবালার ঘটনা স্মরণ করছেন। অনেক সুন্নি মুসলিমও রোজা, দোয়া ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে দিনটি পালন করছেন।
কিছু রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মহরম উপলক্ষে সরকারি ছুটি পালন করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য পরিষেবার কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
মহরম উপলক্ষে বিভিন্ন রাজ্যে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে অনুষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
মহরম শুধু একটি ধর্মীয় পালন নয়; এটি সত্য, ন্যায়, আত্মত্যাগ ও মানবতার চিরন্তন বার্তা বহন করে। দেশজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশে দিনটি পালিত হচ্ছে।