আজ সারা বাংলায় শুরু হল মা বিপত্তারিণী পুজো — কেন পালিত হয় এই ব্রত? কী এর ইতিহাস ও উদ্দেশ্য?
গ্রাম বাংলা রিপোর্ট | ১৮ জুলাই ২০২৬, শনিবার
আজ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামাঞ্চলে ভক্তিভরে পালিত হচ্ছে মা বিপত্তারিণী ব্রত ও পুজো। বিশেষ করে বিবাহিত মহিলারা পরিবারের সুখ-শান্তি, স্বামী-সন্তানের দীর্ঘায়ু এবং সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষার প্রার্থনায় এই ব্রত পালন করেন। ২০২৬ সালে বিপত্তারিণী ব্রত পালনের অন্যতম শুভ দিন আজ, ১৮ জুলাই।
বিপত্তারিণী কে?
হিন্দু ধর্মমতে মা বিপত্তারিণী হলেন দেবী দুর্গার ১০৮টি রূপের অন্যতম, যিনি ‘সংকটনাশিনী’ নামে পরিচিত। ‘বিপত্তারিণী’ শব্দের অর্থ—যিনি সব বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, আন্তরিক ভক্তিভরে দেবীর আরাধনা করলে জীবনের নানা বাধা, দুর্ঘটনা ও অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
এই পুজোর সূচনা কীভাবে?
পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, একসময় দেবী পার্বতী কঠোর তপস্যার মাধ্যমে এমন এক শক্তির প্রকাশ ঘটান, যা সকল বিপদ থেকে ভক্তদের রক্ষা করতে সক্ষম। সেই শক্তিরই প্রকাশ মা বিপত্তারিণী। গ্রাম বাংলার লোকবিশ্বাসে বহু শতাব্দী ধরে এই ব্রত পালিত হয়ে আসছে এবং ধীরে ধীরে এটি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মীয় আচার হয়ে ওঠে।
কেন পালন করা হয়?
এই ব্রতের মূল উদ্দেশ্য হলো—
পরিবারের সকল সদস্যকে বিপদ থেকে রক্ষা করা।
সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা।
স্বামী ও সন্তানের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল প্রার্থনা।
অশুভ শক্তি ও দুর্ঘটনা থেকে মুক্তি কামনা।
কবে পালিত হয়?
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আষাঢ় মাসে রথযাত্রা ও উল্টো রথের মধ্যবর্তী শনিবার বা মঙ্গলবার বিপত্তারিণী ব্রত পালন করা হয়। ২০২৬ সালে আজ, ১৮ জুলাই (শনিবার) এবং ২১ জুলাই (মঙ্গলবার)—দুই দিনই ব্রত পালনের শুভ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পুজোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য
বিপত্তারিণী পুজোয় অনেক ভক্ত ১৩টি ফল, ১৩টি ফুল, ১৩টি পান, ১৩টি সুপারি নিবেদন করেন। এছাড়া দেবীর আশীর্বাদ ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে হাতে লাল সুতো বাঁধারও প্রথা রয়েছে গ্রাম বাংলার মানুষের।
সারা গ্রাম বাংলাজুড়ে ভক্তির আবহ
আজ কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মন্দির ও বাড়িতে বিশেষ পুজো, ব্রতকথা পাঠ এবং প্রসাদ বিতরণের আয়োজন হয়েছে। বহু ভক্ত সকাল থেকেই উপবাস রেখে দেবীর আরাধনায় অংশ নিচ্ছেন।
**জয় মা বিপত্তারিণী। সকলের জীবনে শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল নেমে আসুক।**
grambanglareport.com