PRESS RELEASE

সুর ও স্তব্ধতার যুগলবন্দী: কলকাতায় হার্টফুলনেসের অনন্য আধ্যাত্মিক আয়োজন

By SHYAMASREE PUJARI • 2026-08-11 04:14 • 6 views   Share WhatsApp Share Facebook Share X
সুর ও স্তব্ধতার যুগলবন্দী: কলকাতায় হার্টফুলনেসের অনন্য আধ্যাত্মিক আয়োজন

কলকাতা, ৯ আগস্ট ২০২৬: মহানগরের ব্যস্ততার মাঝে এক টুকরো মানসিক শান্তি ও আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া দিতে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সুর ও ধ্যানের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। আনন্দপুরের হার্টফুলনেস আশ্রমে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মূর্ছনার সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল ধ্যানের গভীর প্রশান্তি। সমবেত শ্রোতা ও সাধকদের জন্য সমগ্র পরিবেশটি হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত মনোরম ও আধ্যাত্মিক ভাবগম্ভীর।
​এদিনের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল প্রথিতযশা কণ্ঠশিল্পী মৈত্রেয়ী রায়ের সুমধুর কণ্ঠ সঙ্গীত এবং উদীয়মান শিশুশিল্পী অনির্বাণ রায়ের অনবদ্য বাঁশীবাদন। তাঁদের মেলোডিয়াস পরিবেশনা উপস্থিত সকলের মন ছুঁয়ে যায় এবং পুরো অডিটোরিয়ামে এক স্বর্গীয় প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয়। সম্পূর্ণ নিখরচায় আয়োজিত এই উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছিল—যার মধ্যে শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে কর্পোরেট জগতের ব্যস্ত পেশাজীবীরাও শামিল ছিলেন। দৈনন্দিন জীবনের ইঁদুরদৌড় থেকে কিছুটা সময় বের করে সঙ্গীতের মাধ্যমে অন্তরের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং ধ্যানের সাহায্যে মনকে স্থির করার এক দারুণ সুযোগ পান তাঁরা।
​অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে হার্টফুলনেসের গাইড তথা শ্রী রামচন্দ্র মিশনের সভাপতি শ্রদ্ধেয় দাজি তাঁর বিশেষ বার্তায় জানান, "শরীরকে সচল ও সুস্থ রাখতে আমরা যেমন নিয়মিত ব্যায়াম করি, ঠিক তেমনই মন ও আত্মাকে সতেজ রাখতে ধ্যানের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের ঐতিহ্যবাহী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সাথে আধ্যাত্মিকতার এক গভীর যোগসূত্র রয়েছে। সঙ্গীতের বিভিন্ন রাগ মানুষের শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। আর যখন এই সঙ্গীতের সাথে ধ্যানের সংযোগ ঘটে, তখন তার ইতিবাচক প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়।"
​নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কণ্ঠশিল্পী মৈত্রেয়ী রায় বলেন, "শ্রদ্ধেয় দাজির দেখানো আধ্যাত্মিক পথে যাঁরা নিজেদের পরিচালিত করছেন, এমন এক নিষ্ঠাবান শ্রোতৃমণ্ডলীর সামনে গাইতে পারা অত্যন্ত আনন্দের। সঙ্গীতের অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক রূপটি উপভোগ করার মতো শ্রোতা পাওয়া যেকোনো শিল্পীর জন্যই অত্যন্ত সৌভাগ্যের।" অন্যদিকে, তরুণ বাঁশিবাদক অনির্বাণ রায় জানান, "হার্টফুলনেস ধ্যানের পবিত্র আবহ অনুভব করার পাশাপাশি এত সুন্দর ও গুণী শ্রোতাদের সামনে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করতে পেরে আমি সত্যিই আপ্লুত।"
​এই আয়োজনের মূল ভিত্তি ছিল হার্টফুলনেসের অত্যন্ত সহজ ও কার্যকর ধ্যান পদ্ধতি। এই অভ্যাসের মাধ্যমে মানুষ সহজেই নিজের অন্তরের দিকে তাকাতে পারেন এবং নিজের আবেগ অনুভূতিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখেন। নিয়মিত এই ধ্যানচর্চা মনকে শান্ত রাখা, মানসিক অবসাদ দূর করা এবং জীবনে প্রকৃত শান্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। সুরের জাদু আর ধ্যানের নিস্তব্ধতার এই মেলবন্ধন প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে এক গভীর আনন্দের রেখাপাত করেছে।
​হার্টফুলনেস (Heartfulness) সম্পর্কে কিছু কথা:
​বিংশ শতাব্দীর শুরুতে উদ্ভূত এবং ১৯৪৫ সালে ভারতে 'শ্রী রামচন্দ্র মিশন'-এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়া হার্টফুলনেস মূলত কিছু সহজ ধ্যান পদ্ধতি ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মিশেল। প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে শান্তি, আনন্দ ও প্রজ্ঞার আলো জ্বালিয়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য। এটি আধুনিক যুগের উপযোগী একটি যোগ পদ্ধতি, যা মানুষের মনের ভেতরের অস্থিরতা দূর করে আত্মতৃপ্তি, সমবেদনা, সাহস এবং চিন্তার স্পষ্টতা বাড়াতে সাহায্য করে। ১৫ বছরের ঊর্ধ্বের যেকোনো সংস্কৃতি, ধর্ম বা অর্থনৈতিক Background-এর মানুষ খুব সহজেই এটি আপন করে নিতে পারেন। বর্তমানে বিশ্বের ১৬০টি দেশে ছড়িয়ে থাকা ৫,০০০-এরও বেশি হার্টফুলনেস সেন্টারে লক্ষ লক্ষ মানুষ যুক্ত আছেন এবং হাজার হাজার প্রত্যয়িত স্বেচ্ছাসেবী ট্রেইনার বিনামূল্যে এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার স্কুল-কলেজের পাশাপাশি প্রায় ১ লক্ষেরও বেশি কর্পোরেট ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীরা নিয়মিত এই ধ্যান অনুশীলন করছেন।

SHYAMASREE PUJARI 0 followers