May 13, 2026

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বাংলাদেশ ও হিন্দুত্ব প্রসঙ্গ, আরএসএসের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতিতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বহুদিন ধরেই আলোচনায় থাকে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক মহলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এবারের নির্বাচনে আরএসএস ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলি তৃণমূল স্তরে আগের তুলনায় বেশি সক্রিয় ছিল। যদিও আরএসএস বরাবরই দাবি করে যে তারা সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নেয় না।

সংঘের বিভিন্ন শাখা ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে “জাতীয় স্বার্থ”, “সাংস্কৃতিক পরিচয়” এবং “সামাজিক সংগঠন”-এর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন জানিয়েছেন।

সমালোচকদের দাবি, এই প্রচারের ফলে ধর্মীয় মেরুকরণের পরিবেশ আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সমাজের নিরাপত্তা ও পরিচয় নিয়ে উদ্বেগের বার্তা প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে বিজেপির নেতারা দাবি করেছেন, তাদের নির্বাচনী সাফল্যের মূল কারণ ছিল সুশাসন, সাংগঠনিক শক্তি এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতি। দলের মতে, আরএসএস তৃণমূল স্তরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মাধ্যমে কাজ করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক ও মতাদর্শগত স্তরে যে পরিবর্তন ঘটছে, তার প্রভাব নির্বাচনের ফলাফলেও প্রতিফলিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, আরএসএসের কার্যক্রম শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় সীমাবদ্ধ থাকে না। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সংগঠনভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে থাকে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর আগামী দিনে আরএসএস ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর ভূমিকা কতটা বাড়ে, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে।

Written by

DEVASHISH GOVIND TOKEKAR

District Reporter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

INDIAN PRESS UNION

Indian Press Union (IPU) A National Platform for Journalists and Media Professionals.

© 2026 All Rights Reserved IPU MEDIA ASSOCIATION