পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের মাধ্যমে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা রাজ্য প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে।
এই বৈঠকের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত হলো কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত রাজ্যে কার্যকর করার ঘোষণা। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্প নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চললেও নতুন সরকার জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি, ভারত‑বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।
ক্যাবিনেট বৈঠকে সরকারি চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহু চাকরিপ্রার্থী উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন সরকার স্পষ্ট করেছে যে, পূর্ববর্তী সরকারের সময় চালু থাকা সামাজিক প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও পর্যালোচনা করা হবে, তবে কোনও সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে চাপিয়ে দেওয়া হবে না।
প্রথম বৈঠকেই প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, আইন‑শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দপ্তরগুলির কাজের গতি বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সরকার বদলালেও প্রশাসন মানুষের জন্যই কাজ করবে—এই বার্তাই দেওয়া হয়েছে ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্তগুলির মাধ্যমে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের যাত্রা শুরু হলো সক্রিয় সিদ্ধান্ত ও স্পষ্ট অগ্রাধিকারের মধ্য দিয়ে। এখন দেখার বিষয়, এই নীতিগত সিদ্ধান্তগুলি বাস্তবায়নের পথে কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে এগোতে পারে নতুন প্রশাসন।